যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনার সময়ও গাজা উপত্যকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় সোমবার ইসরায়েলের একের পর এক বিমান হামলা ও বোমা বর্ষণে গাজায় অন্তত ৩৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গাজা যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় বসেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সেখানে দুই দেশের সম্মতি ও সমর্থনে গাজায় ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, তার প্রস্তাবই গাজা যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও এতে সমর্থন দিয়েছেন। পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি, বন্দী মুক্তি, হামাসের অস্ত্র পরিত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য গাজা শাসনে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিকরণ বাহিনী (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স) মোতায়েনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি পরিকল্পনাকে’ ইতোমধ্যে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, মিসর, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ।
সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে ফিলিস্তিনকে ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে স্টারমার বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে আহ্বান জানাই। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করতে, যাতে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা যায় এবং বাস্তবায়িত করা যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামাসের উচিত অবিলম্বে এই পরিকল্পনা মেনে নেওয়া এবং অস্ত্র সমর্পণ করে অবশিষ্ট সব বন্দীকে মুক্তি দিয়ে গাজাবাসীর দুর্ভোগের অবসান ঘটানো।’
ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মান সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এ প্রস্তাবকে গাজায় চলমান ‘ভয়াবহ যুদ্ধ’ শেষ করার জন্য ‘অদ্বিতীয় সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ওয়াডেফুল হামাসকে প্রস্তাবটি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই সুযোগ নষ্ট করা যাবে না। হামাসকে অবশ্যই এটি গ্রহণ করতে হবে। যারা হামাসকে প্রভাবিত করতে পারেন, আমি তাদের এখনই কাজ শুরুর আহ্বান জানাচ্ছি।’

অবশ্য গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন গাজার সাধারণ মানুষ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময়ও গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনই চলতে থাকলে কোনো শান্তি প্রস্তাবই বাস্তবায়িত হবে না, কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনাকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ। গাজাবাসীরা বলছেন, যুদ্ধ বন্ধ না হলে প্রাণের শহরকে পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখার সুযোগও তারা পাবেন না। এক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সহায়তা ও অর্থায়নকে স্বাগত জানালেও গাজার অভ্যন্তরীণ শাসনে অন্যদের হস্তক্ষেপ চান না তারা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজারেরও বেশি। আহত হয়েছেন প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ।


