গাজা যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্য এখন ‘স্বাভাবিক অবস্থায়’ ফিরতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, রোববার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধকালীন বিরতি টানা তৃতীয় দিনের মতো বহাল থাকার আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক সংবেদনশীল মুহূর্তে এমন মন্তব্য এলো।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়েছে, আপনারা বিষয়টি বুঝতেই পারছেন।’ মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি সবকিছু স্বাভাবিক হতে চলেছে।’
মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে সোমবার প্রথমে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। তারপর মিশরে ‘শান্তি সম্মেলনের’ উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।
গাজায় সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে এবং অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা শহরের দিকে উত্তরে ফেরা শুরু করেছেন বহু বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। তারা আশাবাদী, এই বিরতি স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।
ইসরায়েলও হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের ধাপে ধাপে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত হচ্ছে। বন্দি বিনিময় নিয়ে এই সমঝোতাকে অনেক বিশ্লেষক সম্ভাব্য সমাধান প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে মিশর, কাতারসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জন্য নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা ত্বরান্বিত করছে। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছে।
গাজার উত্তরাংশ, বিশেষ করে গাজা নগরী, গত দুই মাস ধরে ইসরায়েলের প্রধান হামলার নিশানা ছিল। সেখানে ফিরে আসা ফিলিস্তিনিরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নতুনভাবে বেঁচে থাকার পথ খুঁজছেন। তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ভেঙে গেলে সংঘাত আবারও শুরু হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহল এখন তাকিয়ে আছে– যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সাময়িক বিরতি, নাকি তা আসলেই একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বার খুলবে, এমন প্রশ্নের মিমাংসায়।
ট্রাম্পের ‘শান্তি সম্মেলনে’ নেই ইসরায়েল ও হামাস
ফিলিস্তিনের গাজায় সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে মিশরে সম্মেলনে বসছেন বিশ্বনেতারা। ট্রাম্পসহ ২০টির বেশি দেশের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস কিংবা ইসরায়েল সরকারের কোনো প্রতিনিধি এ সম্মেলনে থাকছেন না।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী বন্দিবিনিময়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে হামাস ও ইসরায়েল।
যুদ্ধবিরতির চতুর্থ দিনে সোমবার মিশরের পর্যটন শহর শারম আল শেখে ‘শান্তি সম্মেলনে’ বসছেন বিশ্বনেতারা। সেখানে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে ইতিমধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, তাতে ট্রাম্প স্বাক্ষর করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


