গাজায় ইসরায়েলের ‘অবৈধ অবরোধ’ ভাঙার জন্যই ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’র ব্যানার নৌবহর যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে হয়েছিল, শুধু কথা বললেই চলবে না, কিছু করে দেখাতে হবে। ইসরায়েল যে অবৈধ অবরোধ করেছিল তা ভাঙার জন্যই এই যাত্রা।’
শনিবার বিকালে দৃক পাঠ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় ফ্রিডম ফ্লোটিলা যাত্রা, ইসরায়েলের কারাগারে আটক ও মুক্তিসহ গাজামুখী ওই অভিযাত্রার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শুক্রবার ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তির পর বিমানে তুরস্ক হয়ে শনিবার ভোরে দেশে ফেরেন তিনি।
শহিদুল আলম বলেন, ‘ইসরায়েল যেভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছিল, সেটাই ছিল আমাদের প্রশ্ন। সুমুদ ফ্লোটিলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল তারা ত্রাণ দেবে। তবে ত্রাণ তো আছে, শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে, ভেতরে ঢুকতে পারছে না। ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া একধরনের প্রতীকী বিষয় ছিল। আমরা ত্রাণের অজুহাত দিইনি, যদিও আমাদের কাছে ত্রাণ ছিল। আমাদের ফ্লোটিলা দ্রুত পৌঁছেছে।’
আটক করে জাহাজ থেকে নামানোর পর ইসরায়েলি বাহিনীর আচরণ ও নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাত পেছনে বেঁধে হাঁটুমুড়ে বসানো হয়েছিল এবং যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে ইসরায়েলি বাহিনী আগে থেকেই মূত্রত্যাগ করেছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফেলে দেওয়া হলে তা তুললে আবারও উপর্যুপরি নির্যাতন করা হয়েছিল।’
নিজের সঙ্গীদের মধ্যে কথা বলায় অন্য দুই সহযাত্রীকে মেশিনগানের ব্যারেল দিয়ে আঘাতও করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
শহিদুল আলম আরও বলেন, ‘মরুভূমির মধ্যে ইসরায়েলের সবচেয়ে গোপনীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেখানে এক সহযাত্রী জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাকে বলেছিল ‘তুমি হামাসের এজেন্ট, ভেতরে নিয়ে তোমাকে গুলি করা হবে’।’
কারাগারে তারা অনশন চালায়। আড়াই দিনে মাত্র এক প্লেট খাবার দেওয়া হয়েছিল। ঘুমানোর স্থান লোহার ছিল এবং শৌচাগার শোচনীয় অবস্থায় ছিল। গভীর রাতে সেলে মেশিনগান নিয়ে ঢুকে চিৎকার করে দাঁড়ানো ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হতো, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘অসাধারণ কিছু ব্যক্তি একসঙ্গে হওয়ার কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আন্তর্জাতিকভাবে একটি নেটওয়ার্ক গড়ব। আন্তর্জার্তিক নেতারা যদি না করে, আ্যাকটিভিস্টরা কীভাবে পারে–তারই প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছি এবং ফেরার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আবার আমরা যাব এবং হাজারটা জাহাজ যাবে।’
তিনি দেশের জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বলেন, দেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিকভাবে প্রয়োগ করে এমন একটি আন্দোলন গঠনের প্রয়োজন আছে।


