গণভোটের সঙ্গে বেইমানি করলে বিএনপি ‘বিশ্ব গাদ্দার’ হিসেবে পরিচিতি পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
তিনি বলেছেন, ‘গণভোটের রায় ইতিহাসে কেউ অস্বীকার করেনি। বিএনপি যদি গণভোটের সঙ্গে গাদ্দারি করে তাহলে বিএনপি বিশ্ব গাদ্দার হিসেবে পরিচিতি পাবে।’
শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে অংশ নেন ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে কর্মসূচিকে গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের এখানে সমাবেশ করতে হচ্ছে, এটা বিএনপির জন্য একটা কলঙ্কজনক অধ্যায়। যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে, তারা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে যেতে পারে না।’
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের যে ম্যান্ডেট জনগণ দিয়েছে, তা যদি বিএনপি অস্বীকার করে তাহলে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাব।’
হরমুজ প্রণালি থেকে তেলের জাহাজ অবমুক্ত করার কূটনীতিক সক্ষমতা বিএনপি সরকারের নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আপনারা না পারেন তাহলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে আমাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিন।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সমাবেশে বলেন, ‘হাসিনার আমলে যারা মজলুম ছিল তারা এখন ক্ষমতায় গিয়ে অতীতের কথা ভুলে গেছেন। তারা দেশের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, তাই আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’
রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেদিন সংসদ আর রাজপথ এক হয়ে যাবে, সেদিন বালুর বাঁধ দিয়ে সমুদ্রের স্রোত সামলাতে পারবেন না। জুলাইয়ের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, তাদের ছাড় দিয়ে কথা বলব।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যত দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে বিএনপির জন্য মঙ্গল, দেশের জন্য মঙ্গল।’
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি “জুলাই সনদ” বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।’
নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বৈত শপথ না নেওয়ার কারণে সংস্কার প্রক্রিয়া থমকে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, ফলে দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হচ্ছে।’
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গত দুই মাস ধরে সংসদে প্রতি ঘণ্টায় জনগণের ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয় করে আজাইরা আলাপ করা হচ্ছে। জুলাইকে যারা অস্বীকার করে ক্ষমতা অর্জন করবে, তাদের আরেকটি ৩৬ জুলাই দেখতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আব্দুস সোবহান খান বলেন, ‘তারেক সরকার তুমি বাঘের হুংকার দেখেছো, বাঘ দেখোনি।’
দলটির যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘জনগণের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ভোট দিতে বলেন, কিন্তু তার দলের নেতাকর্মীরা না ভোটের পক্ষে প্রচারণা করে তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রতারণা করে কেউ টিকে থাকতে পারে না।’
সমাবেশে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘আমরা এখনই হরতাল-অবরোধে না গিয়ে ধাপে ধাপে কর্মসূচি দিচ্ছি। কিন্তু সরকার যদি পরিবর্তনের পথে না আসে, তবে জনরোষের মুখে পড়তে হবে।’
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘সংসদে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধাপে ধাপে কর্মসূচির তীব্রতা বাড়ানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরিস্থিতি বিবেচনায় হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির বিষয়েও জোটের ভেতরে আলোচনা চলছে।
এর আগে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৯ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লিফলেট বিতরণ, জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ এবং ঢাকায় জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ এপ্রিল জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে নতুন আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
নেতারা বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ঘোষিত প্যাকেজ আন্দোলন চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’


