চার দফা দাবিতে পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণছুটি কর্মসূচি পালন শুরু করছেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পাবনার জেলা প্রশাসক মফিজুল ইসলাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আন্দোলকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি সম্পর্কে আলোচনা করেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসকের কাছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়। সেই লিখিত আবেদনে পল্লীবিদ্যুৎ সিস্টেমে থাকা অস্থিরতার বিষয়ে জানানো হয় এবং সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়।
এর আগে, বুধবার সকাল থেকে গণছুটি কর্মসূচি পালন শুরু করেছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ৫১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ৩১০ জন।
পল্লীবিদ্যুৎ সিস্টেমের সংস্কার ও আরইবির শোষণ, নিপীড়ন এবং নিম্নমানের মালামাল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে চার দফা দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন বলে জানান গণছুটিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পাবনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর তথ্য অনুযায়ী, চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর, আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী এবং পাবনা সদর উপজেলা মিলিয়ে আওতাধীন মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার জন।
সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘বুধবার ১২১ জন গণছুটিতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার ৮৭ জন গণছুটিতে আছেন। লোকবল কম হলে তো গ্রাহকসেবা দিতে সমস্যা হয়ই। তারপরও আমরা আমাদের সাধ্যমতো গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে।’
পাবনা জেলা প্রশাসক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনা-১ ও পাবনা-২ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জিএমসহ আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারীদের আমি ডেকেছিলাম। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের বলেছি, আপনাদের কোনো দাবি থাকলে সেটা আমাদের জানান। আমরা সেটা মন্ত্রণালয়ে জানাবো যাতে আপনাদের দাবি পূরণ হয়। কর্মবিরতিতে না গিয়ে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে। যাতে গ্রাহকদের ভোগান্তি না হয়। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’
এর আগে, পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপবিএ) দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সই করা আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারী থেকে দেশের ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ একই বছরের ২৩ অক্টোবর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সভাপতি করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। দীর্ঘ ৮ মাসেও সেই কমিটি প্রতিবেদন দাখিল না করায় পুনরায় শহীদ মিনারে ১৬ দিনব্যাপী আন্দোলেন করে। পরে প্রতিবেদন দাখিল হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১৭ জুন বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক আবারও উচ্চ পর্যায়ের দুইটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু তারপরও কোনো সুষ্ঠু সমাধান হয়নি।
১৭ আগস্ট থেকে বিভিন্ন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ট্যান্ডরিলিজের মাধ্যমে বরখাস্ত করে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৭ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সমিতির ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত এবং ছয়জন কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে গ্রাহকসেবা চালু রেখে ৩১ আগস্ট থেকে দেশের ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি চার দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে।


