খোঁচা দিলে ভেতরে যা আছে সব প্রকাশ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা খোঁচাখুঁচি পছন্দ করি না। আমাদের খোঁচা দিলে ভেতরে যা আছে সব প্রকাশ করে দেব।
‘বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না, আমরা আগেই বলেছি জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যারা দেশকে বিভক্ত করে তারা কোনো দিন দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা নিজেদের সুবিধার জন্য দেশবাসীর মাথায় কাঠাল ভেঙে খেতে চায়। আমরা ন্যায় বিচার চাই। ন্যায় বিচার যেখানে কায়েম হবে, জাতি সেখানে বিভক্ত হবে না।’
শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জ শহরের ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে জামায়াত আমির আরও বলেন, একসময় সিরাজগঞ্জ জেলা ছিল তাঁত শিল্পে সমৃদ্ধ। মাঝখানে দেখা গেল তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। বিগত সরকারের আমলে তাঁতের বাজার তৈরি করা, তাঁত শিল্পের উপাদান সরবরাহ করা এবং এর মান উন্নয়নের কোনো পৃষ্টপোষকতা করা হয়নি। যার কারণে এই শিল্প আস্তে আস্তে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে কথা দিচ্ছি তাঁত শিল্পকে আবার জীবন্ত করে তোলা হবে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় আসলে প্রথম নজর শিক্ষার ওপর দেব। সিরাজগঞ্জ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। সেই অধিকার দাবি করে আদায় করতে হবে না। আপনাদের অধিকার ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই সবগুলো কাজ করতে হলে সংস্কার প্রয়োজন। এজন্যই গণভোট। এই গণভোটে “হ্যাঁ” বলতে হবে। এই গণভোট হচ্ছে শরিফ ওসমান হাদির বিচার হবে।’
গণভোট নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটে “হ্যাঁ” মানেই ১৪ শতাধিক শহীদকে কথা দেওয়া হচ্ছে তোমাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। গণভোটে “হ্যাঁ” মানে তোমরা যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিলে, আমরা তোমাদেন ঋন পরিশোধ করব “হ্যাঁ” ভোটের মধ্য দিয়ে। এই গণভোটের “হ্যাঁ” মানে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। এই গণভোটের “হ্যাঁ” মানে অধিপত্যবাদ দালালদের বাংলার জনগণ বরদাশ করবে না। এ ব্যাপারে পুরোপুরি লাল কার্ড।’
জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, সহকারি সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আলী আলম, বেলকুচি উপজেলা জামায়াতের আমির আরিফুল ইসলাম সোহেল, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ, শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শামীম রেজা প্রমুখ।


