খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে মামলার প্রধান আসামি ও নিহত দুই শিশুর সৎ বাবা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার।
শনিবার দুপুরে তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
এর আগে, শুক্রবার সকালে বরিশালের কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত অনিমেষ মন্ডল বলেন, ঈদের দিন রাতে রফিকুলের শাশুড়ি বেবী বেগম রাগ করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরের দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মেইন গেট ও ঘরের দরজা খোলা থাকায় ফের ওই বাড়িতে আসে রফিকুল। কিন্তু ঘরে ঢুকতে গেলে তার শাশুড়ি তাকে দেখে গালি গালাজ করতে থাকেন। এ সময় তাকে ঠেলা দিয়ে ঘরের ভেতরে ফেলে দেয় রফিকুল। এরপর গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তিনি।
এ ঘটনা শিশু শামীম দেখে ফেলায় তাকেও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। ওই সময় শামীমের গোঙানী শুনে শিশু মুস্তাকিম ঘুম থেকে জেগে হত্যার বিষয়টি দেখে ফেলে। এরপর ট্রাংকের ওপর থাকা পায়জামা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকেও হত্যা করে রফিকুল। এরপর শাশুড়ি বেবী বেগমের মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর ও মুস্তাকিমের মরদেহ ওয়ারড্রবের একটি ড্রয়ারের মধ্যে লুকিয়ে রেখে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে স্ত্রী মেরী বেগমের রুমের সামনে দাড়িয়ে থাকে।
কিছু সময় পর তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে ছেলে ও মায়ের সন্ধান জানতে চান। এ সময় রফিকুল তকে জানান, শাশুড়ি তাদের সঙ্গে থাকবেন না বলে বাড়ি থেকে চলে গেছেন। এরপর শুক্রবার সারাদিন তাদের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় যায় রফিকুল ও মেরী। কিন্তু খোঁজ মেলেনি। পরদিন শনিবার দুপুরে মেরী ও তার স্বামী রফিকুল একইসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করে। বিকালে তালাবদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে মেরী তালা কাটার উদ্যোগ নেন। সে সময় কৌশলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে রফিকুল।
শুক্রবার র্যাব-৬ এর সদস্যরা আসামি রফিকুলকে গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তর করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নিজের দোষ স্বীকার করে এবং আজ দুপুরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।


