হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তবে তাকে দেখতে যাওয়া ব্যক্তিদের তিনি চিনতে পারছেন।
খালেদা জিয়াকে দেখে এসে শুক্রবার রাত দেড়টার পর এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।
গত ২৩ নভম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন আছেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘উনার ওপর যে অত্যাচার বিগত সরকারের সময় হয়েছে, তার রেজাল্ট (ফলাফল) আমরা এখন পাচ্ছি। ম্যাডাম এই ভালো থাকেন, এই খারাপ। আমি পারসোনালি (ব্যক্তিগতভাবে) মনে করছি, উনি এই মুহূর্তে স্ট্যাবল (স্থিতিশীল) নন। আরও একটু উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো ভালো হবেন, ভালো থাকতে পারেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিতে কাজ করবেন উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সি ইজ নট পারফেক্টলি অলরাইট (তিনি পরিপূর্ণভাবে সুস্থ নন)। হয়তো রিকভারি হতেও পারেন ইনশাআল্লাহ।’
হাসপাতালের ভেতরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা দূরত্ব বজায় রেখে উনার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি শুধু। উনি আমাদেরকে চিনতে পেরেছেন এবং আমরা সালাম দিয়েছি, উনি রিপ্লাইও (জবাব) দিয়েছেন।’
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান জানান, মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছে এবং যা যা করা দরকার, তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে শুক্রবার দুপুরে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ বলে জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে শুক্রবার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।


