খাগড়াছড়িতে এক পাহাড়ি ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের আয়োজনের এই সমাবেশে অংশ নেন ঢাকায় বসবাসরত পাহাড়ি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে খাগড়াছড়িতে এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তিন সেটেলারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার ৪৮ ঘণ্টা পেরোলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, ‘আপনারা (সরকার) প্রতিনিয়ত নতুন প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পাহাড়ে ধর্ষণের মহাযজ্ঞ থামাতে পারেননি।’
বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সহসভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরাং বলেন, ‘পাহাড়িদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় হয় না। আর কোনো পাহাড়ি ধর্ষণ সহ্য করা হবে না। এই দেশ সকলের জন্য নিরাপদ হতে হবে।’

সমাবেশের সভাপতি অনন্ত তঞ্চঙ্গ্যা জানান, পাহাড়ে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, বিচার হয় না।
তিনি বলেন, ‘১৫টিরও বেশি গণহত্যা হয়েছে, যার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। সমতলে ছোট ঘটনা হলে সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমে আসে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিদিন অঘোষিত ১৪৪ ধারা কার্যকর। এই ক্ষোভ একদিন আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হবে’।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘ধর্ষণকারীরা বিশেষ গোষ্ঠীর, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের রক্ষা করে। তারা গণহত্যা, ভূমি বেদখল, ধর্ষণসহ সব অপরাধ করছে।’
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রিয়া চাকমা বলেন, ‘নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা সুপরিকল্পিত। পাহাড়ি যুবক অপরাধ করলে “পাহাড়ি সন্ত্রাসী”, আর বাঙালি হলে পরিচয় আড়াল। এটা চলতে পারে না।’
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি ছাড়া ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র বন্ধ হবে না বলেও মত দেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অনিক কুমার দাশ, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক সৃজন মৃ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শান্তিময় চাকমা।


