বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬: হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) ও টিআইবির পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত শতাধিক অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বর্তমান সংসদে পাস হয়নি। এর পরিবর্তে সরকার নতুন করে আইনটির খসড়া প্রণয়ন করেছে। তবে নতুন খসড়ায় কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য আগে প্রস্তাবিত অনেক ক্ষমতাই সীমিত করা হয়েছে।’
ইফতেখারুজ্জামানের মতে, খসড়ার কিছু বিধান বহাল থাকলে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা এবং কার্যকর ভূমিকা পালনের সক্ষমতা কমে যাবে। বিশেষ করে গুমের অভিযোগ তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশে কমিশনকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন খসড়ায় তা সংকুচিত করা হয়েছে।
এ ছাড়াও খসড়া আইনের ১৩ নম্বর ধারায় কমিশনের তদন্ত, পরিদর্শন ও তদারকির ক্ষমতার আওতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা ও নজরদারি সংস্থার সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্র বা কথিত আয়না ঘর পরিদর্শনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে গোপন বা অবৈধ আটকের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আবার খসড়া আইনের ২০ নম্বর ধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত রাখার বিষয়েও আপত্তি জানায় টিআইবি।
পরামর্শ সভায় ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গড়তে এর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা উচিত।’


