নেপালের জেন জি আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, শনিবার সকালে রাজধানী কাঠমান্ডুর ভক্তপুরের গুন্ডু এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে আটক করা হয়।
একই দিন ভোর ৫টার দিকে ভক্তপুরের সূর্যবিনায়ক এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। তার ব্যক্তিগত সচিব জনক ভট্ট এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির জেন জি আন্দোলনে সরকারের বল প্রয়োগের ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় ওলি ও লেখকের বিরুদ্ধে অবহেলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর জেরেই শনিবার তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নেপালের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি মানেই প্রতিশ্রুতি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এই পদক্ষেপ প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা এবং দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।’
কেপি শর্মা ওলি কমিউনিস্ট ইউনিফাইড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্টের (ইউএমএল) প্রধান এবং রমেশ লেখক নেপালি কংগ্রেসের (এনসি) জ্যেষ্ঠ নেতা।
গত শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে গত বছরের জেন জি আন্দোলন তদন্তে গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অবসরপ্রাপ্ত বিশেষ আদালতের চেয়ারম্যান গৌরি বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিশন তাদের প্রতিবেদনে ওলি, লেখক এবং পুলিশ প্রধান চন্দ্র কুবের খাপুংয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগে তদন্তের সুপারিশ করে। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের দায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তারা ন্যাশনাল পেনাল কোডের ১৮১ ও ১৮২ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করারও সুপারিশ করেছে। এসব ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব গোকর্ণ মণি দাওয়াদি, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রধান রাজু আর্যাল, জাতীয় তদন্ত বিভাগের সাবেক প্রধান হুতরাজ থাপা এবং কাঠমান্ডুর তৎকালীন প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছাবি রিজাল-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল পেনাল কোডের ১৮২ ধারায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এরপর থেকেই ভক্তপুরে ওলির বাসভবনের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ইউএমএল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে কেপি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করে।
ইউএমএল ও নেপালি কংগ্রেসের নেতারা কমিশনের প্রতিবেদনকে অসম্পূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করে ওলি ও লেখকের গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইউএমএল জরুরি বৈঠক ডেকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দলটির মহাসচিব মহেশ বসনেত এই গ্রেপ্তারকে ‘প্রতিহিংসামূলক’ আখ্যা দিয়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জরুরি বৈঠকেই পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারির পর দেশজুড়ে তরুণ ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত হন, আহত হন প্রায় ৭০০ জন। এই আন্দোলনের পরই কেপি শর্মা অলির সরকার পতন ঘটে।


