দিনাজপুরে আগাম আলুতে লাভের আশা, বাড়তি খরচে শঙ্কা

দিনাজপুরে আগাম আলুতে লাভের আশা, বাড়তি খরচে শঙ্কা
দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে আলু চাষের জন্য ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কৃষকরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

আমন ধান কাটার পরপরই দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে শুরু হয়ে গেছে আগাম জাতের আলু চাষের মহাযজ্ঞ। হিলির কৃষকরা একদিকে যেমন আলু চাষ করে বাড়তি লাভের স্বপ্ন দেখছেন, অন্যদিকে আবার সার, কীটনাশকের দাম ও শ্রমিকের পারিশ্রমিক বাড়তি হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় ভুগছেন।

শীতের আগমনের এ সময়ে কৃষিজমিতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হলেও, উৎপাদন খরচের লাগামহীন বৃদ্ধিতে কৃষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

তবুও শীতের কুয়াশামাখা দিনে আলুর বাম্পার ফলন এবং বাজারে প্রত্যাশিত দামের আশায় অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল ও স্বল্পমেয়াদি শাটাল জাতের আলুর বীজ রোপণে কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়তি খরচের বোঝা তাদের পিছু টেনে ধরলেও মৌসুমের শুরুতে আলুর চড়া দামের প্রত্যাশায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

খট্টামাধবপাড়া, ইসবপুর, বোয়ালদাড়সহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে কৃষকরা একযোগে আগাছা পরিষ্কার করছেন। এরপর হাল চাষ দিয়ে সার প্রয়োগ, বেড তৈরি এবং হিমাগার থেকে আনা বীজ রোপণে দিন-রাত এক করে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

ইসবপুরের কৃষক আজগার আলী জানান, আগাম তোলা আলু বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায় বলেই অ্যাস্টেরিক, কার্ডিনাল ও শাটাল জাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এসব আলু প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়, যা ভালো বাজার পেলে যথেষ্ট লাভজনক।

আরও পড়ুন

হিলি ও আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে আলু চাষের জন্য বেড তৈরি করছেন কৃষকরা। ছবি: টাইমস

তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে স্থানীয় শ্রমিকদের ব্যস্ততা ও রোজগারও বেড়েছে। শ্রমিকরা এই সময়কার বাড়তি আয়ে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছেন। তবে কৃষকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন খরচ।

কৃষক আব্দুল্লাহর কথায়, ‘খরচ ভয়ানক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকার কমে আর আলু তোলা যায় না।’

মাধবপাড়ার কৃষক আইনুল বলেন, ‘বীজ আলুর দাম কম থাকায় প্রথমে একটু স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু সার আর কীটনাশকের সংকট আমাদের সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে। বাজারে আলুর দাম কম থাকলে লোকসান ছাড়া কিছুই জুটবে না।’

আরেক কৃষক আইনুল জানান, বাজারে আলুর দাম এখনো কম। যদি ভারতসহ বিদেশে রপ্তানির সুযোগ থাকতো, তবে কৃষকরা আরও লাভে বেশ ভালো আয় করতে পারতেন।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, কৃষকদের আগাম আলু চাষে সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন ও দামের আশা করছেন সবাই।

চলতি বছরে হাকিমপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর বীজ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad