কৃষিবিদ গ্রুপকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

কৃষিবিদ গ্রুপকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য
কৃষিবিদ গ্রুপের লোগো। ছবি: ফেসবুক থেকে
Advertisement
Advertisement

নিয়ম ভেঙে কৃষিবিদ গ্রুপকে দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তার বিষয়ে টাইমস অব বাংলাদেশে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে কৃষিবিদ গ্রুপ। গত ১৩ জানুয়ারি কৃষিবিদ গ্রুপের গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টরের (জিএমডি) স্টাফ অফিসার নিকিতা তালুকদারের পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে, প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ১২ জানুয়ারি ‘নিয়ম ভেঙে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিকে পুরস্কৃত করল বাংলাদেশ ব্যাংক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কৃষিবিদ গ্রুপের দীর্ঘ ২৫ বছরের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হয়েছে। এতে প্রতিবেদক কিছু ‘মনগড়া’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

প্রতিবাদলিপিতে কৃষিবিদ গ্রুপ দাবি করেছে, তারা কোনোভাবেই ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না। বরং বিগত ১৭ বছর প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে হয়রানির মুখে পড়েছে।

গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলা হয়েছে। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, ১৩তম জাতীয় সংসদের মাগুরা-২ আসনে তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদৌ কোনো মনোনয়ন চাননি এবং নির্বাচন করতেও আগ্রহী ছিলেন না।

ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে সাম্প্রতিক একটি সনদের কথা উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, কৃষিবিদ গ্রুপ বর্তমানে কোনো ঋণখেলাপি নয়।

প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার মানহানি করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয় প্রতিবাদলিপিতে।

আরও পড়ুন

প্রতিবেদকের বক্তব্য

টাইমস অব বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা অনুমানের ওপর নয়, বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের নথি, বিআরপিডি সার্কুলার, নীতি সহায়তা কমিটির সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর নথি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উপস্থাপিত কোনো তথ্য মনগড়া নয় এবং প্রতিটি দাবির পেছনে লিখিত দলিল বা যাচাই করা উৎস রয়েছে।

প্রতিবেদনে কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী আফজালের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো অভিযোগ হিসেবে নয়, বরং প্রকাশ্য তথ্য ও তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি, বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের আগে তাকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে এবং নিজেই সেসব আয়োজনের ছবি প্রকাশ করতেও দেখা গেছে।

একইভাবে ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিক সৌজন্য সাক্ষাৎ, তাদের সঙ্গে নানা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকা এবং জনসংযোগ কার্যক্রমের ছবিও তিনি নিজেই প্রকাশ করেছেন। এসব তথ্য সবার জানা এবং ভালোভাবে যাচাই করা।

মাগুরা–২ আসনে জামায়াতের মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে প্রতিবেদনটি একাধিক রাজনৈতিক ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে লেখা হয়েছে এবং বিষয়টি ‘চেষ্টা’ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়। প্রতিবেদনে কোথাও অনুমান বা আরোপিত কিছু লেখা হয়নি।

ঋণ পুনঃতফসিল সংক্রান্ত প্রতিবেদনে মূল বিষয় ছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব সার্কুলার অমান্য করে নীতি সহায়তা দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষিবিদ গ্রুপ ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত ছিল। প্রতিবেদক নিশ্চিত হয়েছে, ৯ জানুয়ারি গ্রুপটি ইচ্ছাকৃত খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটাতে সক্ষম হয়েছে। তবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষিবিদ গ্রুপের ঋণ স্পেশাল মেনশন একাউন্ট (এসএমএ) হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। গ্রুপটি বর্তমানে তাদের ঋণ ইউসি বা অশ্রেণীভুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করাতে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করছে।

কৃষিবিদ গ্রুপের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিনিয়োগ, সমবায়, আবাসন ও শেয়ারবাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে নতুন করে সেগুলো অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। তবে জনস্বার্থে, গ্রুপটির কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য আলাদাভাবে সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

কৃষিবিদ গ্রুপ যদি তাদের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট নথি যেমন সিআইবি স্ট্যাটাস, ব্যাংক সার্টিফিকেট, আদালতের আদেশ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার লিখিত সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে, তাহলে টাইমস অব বাংলাদেশ তা যাচাই করে পেশাদার সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী সংশোধন, সংযোজন বা ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad