কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি। গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে পানি বেড়েছে প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার। ভারি বর্ষণ ও ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল এ পানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সবশেষ উপজেলার ভাগজোত পয়েন্টে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৪.৭২ মিটার, যা বিপদসীমা (১৫.৭০ মিটার) থেকে ৯৮ সেন্টিমিটার নিচে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ছিল ১২.৮৯ মিটার এবং গড়াই নদীর পানি ১১.২৭ মিটার, যা বিপদসীমার চেয়ে মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচে।
প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে বলে জানা গেছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নদীরপাড়ের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় এক হাজার হেক্টর ফসলি জমি। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে দুই ইউনিয়নের ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান। প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মরিচ, কলা, ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের নিম্নভূমি ও আবাদি জমি ডুবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ের মানুষ।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুশতাক আহম্মেদ জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ১৩টি বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির মরিচ, রোপা আউশ, কলা, সবজি ও ভুট্টা পানিতে ডুবে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং শুকনো খাবার সরবরাহসহ দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুজ্জামান জাহিদ জানিয়েছেন, পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি কতদিন চলবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না


