কুষ্টিয়ার খোকসায় গড়াই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর একজনের এবং ২৬ ঘণ্টা পর অপরজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার সকালে খুলনা থেকে আসা ডুবুরি দল গড়াই নদীর খোকসা-ওসমানপুর খেয়াঘাট এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সকাল ৯টার দিকে নদীর প্রায় ২০ মিটার গভীর থেকে তাইবা (৭) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে দুপুরে ডুবুরি দল বিশ্রামে গেলে নিখোঁজ শিশুদের স্বজনরা নদীতে বেড়জাল দিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ভাটিতে জেলেদের জালে সুরাইয়া ওরফে সামিয়া (৮) নামের আরেক শিশুর মরদেহ উঠে আসে।
উদ্ধার হওয়া দুই শিশুই উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাইবা ফারুকের মেয়ে এবং সুরাইয়া ওরফে সামিয়া সোহেলের মেয়ে।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে গড়াই নদীর খোকসা-ওসমানপুর খেয়াঘাটে একই বয়সী চার কন্যাশিশু গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে তারা সাঁতার কেটে নদীর মাঝে জেগে ওঠা নতুন চরে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্রোতে ভেসে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে থাকা নৌকার মাঝিরা দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করলেও তাইবা ও সুরাইয়া নিখোঁজ হয়।
ঘটনার পর খোকসা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে তল্লাশি চালায়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চলার পর রাতে খুলনা থেকে ডুবুরি দল আনা হয়।
খোকসা ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খোকসা থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।


