কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রশিবিরের দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও শিবিরের উপজেলা সভাপতি সুজন মিয়াসহ উভয়পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
রোববার দুপুরে উপজেলা শহরের রাজারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে। শিবিরের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে চারজন পুলিশ সদস্য থাকলেও তারা সহায়তায় এগিয়ে আসেননি।
হামলায় আহত উপজেলা পশ্চিম থানা শিবির সভাপতি সুজন মিয়ার মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত অন্য নেতা হলেন ছাত্রশিবির রাজারহাট উপজেলার সাবেক অফিস সম্পাদক সামিদ সাকি মাহিন।
শিবিরের অভিযোগ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারি ও সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দামের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী এই হামলা চালায়।
হামলার শিকার মাহিন জানান, জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতা রুবেল মিয়াকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তার কর্মস্থলে অবরুদ্ধ করে রেখেছে–এমন খবরে তারা সেখানে যান।
তারা মোটরসাইকেলে করে কলেজের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা ছাত্রদল কর্মীরা তাদের গতি রোধ করে এবং সুজন মিয়াকে বেদম মারধর করে।
এ সময় মাহিন তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তাকেও পেটানো হয়। মাহিনের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে চারজন পুলিশ সদস্য থাকলেও তারা সহায়তায় এগিয়ে আসেননি।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারি বলেন, ‘শ্রমিক কল্যাণ নেতা রুবেল মিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে সরকার ও ছাত্রদলকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে শিবিরের নেতারা এসে গালিগালাজ শুরু করেন, যার ফলে উত্তেজিত কর্মীরা তাদের পিটিয়েছে।’
তবে রুবেল মিয়া এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘কেবল জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বক্তব্য পোস্ট করায় তাকে অবরুদ্ধ করে হামলা চালানো হয়েছে।’
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যের জেরে হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল।’


