রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
আব্দুল্লার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার অনুপনগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ ও মা টুকু আরা খাতুন।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে খবর পেয়ে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে প্যাচানো গামছা দিয়ে ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোথাও কোন জখমের চিহ্ন না থাকলেও পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান সাইফুল ইসলাম।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাদ্রাসাটি শুরু হওয়ার পর প্রথম শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ। মাদ্রাসায় থেকেই সে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করত। মঙ্গলবার মাগরিবের পর সে বাথরুমে যায়। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাথরুম থেকে বের না হওয়ায় তাদের সন্দেহ হলে শিক্ষকরা মিলে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাকে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা ট্রিপল লাইনের মাধ্যমে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ নামায়।
আব্দুল্লাহর পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে-পুলিশের এমন সন্দেহের বিষয়ে জানতে চাইলে এই শিক্ষক বলেন, মাদ্রাসায় তিনিসহ পাঁচজন শিক্ষক, দুইজন স্টাফ এবং সর্বমোট ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের কেউই তেমন কিছুই বলতে পারেনি।
তবে শিহাব (১৭) নামে এক শিক্ষার্থী এঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। শিহাব মঙ্গলবার বিকালেই মাদ্রাসা থেকে ছুটি নিয়ে বেরিয়ে গেছে। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।


