খাগড়াছড়ির গুইমারায় মারমা জনগোষ্ঠীর এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতায় হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ১৬০টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ।
মঙ্গলবার সকালে গুইমারা সরকারি মডেল হাই স্কুল মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা এসব সহায়তা তাদের হাতে তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে দ্বিতীয় ধাপে মোট ৫০ লাখ টাকার এককালীন মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন শেফালিকা ত্রিপুরা।
এর আগে প্রথম ধাপে খাগড়াছড়ি সদর ও রামসুবাজার এলাকার নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ফলে দুই ধাপে মোট ১ কোটি টাকা দেওয়া হলো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ, পরিষদের সদস্য কুমার সাচিং প্রু চৌধুরী, মঞ্জিলা ঝুমা প্রমুখ।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর মারমা জনগোষ্ঠীর এক স্কুলশিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।
ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে জুম্ম ছাত্র জনতা। এক পর্যায়ে আন্দোলন সহিংসতায় গড়ালে ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় তিন জন নিহত হন।
দুইপক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে ৯০টির বেশি ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও স্থাপনা পুড়ে যায়। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যে বেশিরভাগই মারমাদের। কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।


