কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গুপি রায়ের গরুর হাট ইজারায় মূল্য এবার অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে।
গত বছর ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ টাকা টাকায় ইজারা দেওয়া হয় এই হাটটি। চলতি বছর ইজারা দেওয়া হয়েছে সোয়া এক কোটি টাকায়।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় প্রতি বছর যেখানে ইজারা মূল্য বেড়েছে, সেখানে এবার আড়াই কোটি টাকা বা ৬৭ শতাংশ কমে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়।
বিধি অনুযায়ী প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়া না গেলে তিন দফা দরপত্র আহ্বানের সুযোগ থাকলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নে অবস্থিত গুপি রায়ের হাট সপ্তাহের প্রতি বুধবার বসে। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাটে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি কিশোরগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাটে পরিণত হয়। স্থানীয়রা বলছেন, হাটটির আর্থিক সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেনি; বরং বেচাকেনা আরও বেড়েছে।
ইজারাটি পেয়েছেন নিকলী উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন চাপে থাকলেও বর্তমানে আবারও এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি।
জানতে চাইলে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহানা মজুমদার মুক্তি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
গত বছরের দর ব্যতিক্রম ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘এবার সর্বোচ্চ দর যিনি দিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
মোকাররম সর্দার বলেন, ‘আমি হিসাব-নিকাশ করেই ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা দর দিয়েছি। সেটিই সর্বোচ্চ দর হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী হাটের ইজারা পেয়েছি।’
আগের বছরের চেয়ে ইজারা মূল্য কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নিকলী রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক খাইরুল মোমেন স্বপন বলেন, ‘যে হাটের ইজারামূল্য গত বছর পৌনে ৪ কোটি টাকা ছিল, সেটা এবার মাত্র সোয়া এক কোটি টাকায় কীভাবে ইজারা দেওয়া হয়? প্রতি বুধবার হাটে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে, বেচাকেনা দিন দিন বাড়ছে। তাহলে সরকারি রাজস্ব এক বছরে আড়াই কোটি টাকা কমে গেল কীভাবে? নিয়ম অনুযায়ী তিনবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তিতেই তড়িঘড়ি করে এত কম দামে হাটটি ছেড়ে দেওয়া হলো। পটপরিবর্তন হলেও ক্ষমতার জোর খাটিয়ে প্রভাবশালীরাই সব নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারের এই বিশাল রাজস্ব ক্ষতির পেছনে কী রহস্য আছে, আমরা তার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’


