কাস্টমসে অটোমেশন হলে আগামী দিনে দেশে আমদানি হওয়া কনটেইনার ও কার্গোর দুই শতাংশ যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের একটি মেজবান হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত বাণিজ্য সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বের কোথাও সব কনটেইনার পরীক্ষা করা হয় না। দক্ষতা ও আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন কনটেইনার যাচাই হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এতে কাস্টমস কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সুযোগ কমে আসবে এবং দুর্নীতির পথ বন্ধ হবে।
তিনি জানান, সফটওয়্যারই নির্ধারণ করে দেবে কোন কনটেইনার যাচাই করা হবে। যে দুই শতাংশ কনটেইনার যাচাই করা হবে, সেগুলোরও অডিট করা হবে। এর ফলে মাল খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। সময় ও খরচ কমিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনা প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের ক্ষমতা কোনো রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়; জনগণের ক্ষমতাই রাষ্ট্রের জন্য ভালো।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের ক্ষমতার মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতাকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখা। বিএনপি জনগণের ক্ষমতার ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয় না। গণতন্ত্রের অর্থ হলো সকল মানুষের অধিকার সমুন্নত রাখা। সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রের কাঠামোর ভেতরে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এজন্য তারা ‘ডি-রেভুলেশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের হাতে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ভেঙে দিতে চান।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের সম্পর্কের ধরন বদলানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাস ধরে দেশজুড়ে বিভাগভিত্তিক এই বাণিজ্য সংলাপ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় সব বিভাগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো সর্বশেষ ধাপের অন্যতম আয়োজন। কেবল ঢাকা বিভাগের সংলাপ বাকি রয়েছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কাজে রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজনীতিবিদদেরই ব্যবসায়ীদের কাছে আসার সংস্কৃতি চালু করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি বিষয়ে ব্যুরোক্রেসি নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে চান তারা। এজন্য ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অটোমেশন ছাড়া ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি সম্ভব নয়। সব খাতে অটোমেশন চালু করা হবে। এজন্য একটি সুপারভাইজারি কমিটি গঠন করা হবে। একটি কনটেইনার দেশে আনতে যেসব অনুমোদন ও প্রক্রিয়া প্রয়োজন, সেগুলো অটোমেশনের মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি অঞ্চলে স্কিল উন্নয়ন সেন্টার স্থাপন করা হবে। দেশে ইতোমধ্যে স্কিল উন্নয়নের জন্য নির্মিত ভবন থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ সালাম বলেন, ব্যবসা সহজ করে করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। এখানে উপস্থিত অনেক ব্যবসায়ী কঠোর পরিশ্রম, নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে আছেন।
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পার্বত্য জেলার ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্যাংক সাপোর্টের অভাব। বিগত ফ্যাসিস্ট আমল থেকে তিন পার্বত্য জেলার ব্যবসায়ীরা ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলতানা নূরজাহান রোজী বলেন, সব ব্যবসায়ী এক প্ল্যাটফর্মে একত্রিত হয়ে সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করলে একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
চেম্বারের সাবেক সভাপতি আলী আহম্মদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বাণিজ্য সংলাপে আরও বক্তব্য দেন মাদার স্টিল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাস্টার আবুল কাশেম, কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি শওকত আলী, সেন্ট্রাল প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ তহিনুর আলম টিটু, পিএইচপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শহিদ উল্লাহ, সি-কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক, খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর আব্দুস সালাম, চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জুনায়েদ আহমদ রাহাত, চট্টগ্রাম ফার্নিচার প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মানিকুর রহমান, বান্দরবান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, বারভিডার প্রাক্তন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।


