জুবায়ের তানিন, আবু ধাবি থেকে
বাংলাদেশের সুপার ফোর ভাগ্য ঝুলে আছে শ্রীলঙ্কার হাতে। গেল সাত বছরে যাদের সাথে গড়ে উঠেছে দ্বৈরথ, যে দুই দল মুখোমুখি হলেই ঘুরেফিরে আসে ‘নাগিন ডার্বি’ শব্দটা। তবুও সমীকরণের মারপ্যাঁচে, টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের বদৌলতে লংকানদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এদিকে টানা দুই জয়ে সুপার ফোর প্রায় নিশ্চিত করে ফেলা শ্রীলঙ্কার সমীকরণ বেশ সহজ, আফগানিস্তানকে হারাতে হবে।
বৃহস্পতিবার আবু ধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণে ম্যাচে নুয়ান থুসারার দারুণ বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে ১২০-৩০ রানের মধ্যে আটকে ফেলার ইঙ্গিত দিলেও মোহাম্মদ নবীর শেষের ঝড়ে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ চার ওভারে ৬৪ রান তুলেছে আফগানিস্তান, এর মধ্যে ৩২ রানই এসেছে দুনিথ ভেল্লালাগের করা শেষ ওভার থেকে। টানা পাঁচ ছক্কায় ফিফটি পূরণ করেছেন অভিজ্ঞ নবী ৩২ বলে। তিন চার ও ছয় ছক্কায় ২২ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
অথচ জীবন পেয়েছিলেন ব্যক্তিগত এক রানে। দুশমন্থ চামিরার বলে স্কয়ার লেগে পুল করেছিলেন নবী। ভেল্লালাগে সেখানে লাফিয়ে উঠে বলে হাত ছোঁয়ালেও শেষ পর্যন্ত তালুবন্দী করতে পারেননি। যদিও শুরুর দিকে বেশ দারুণ ফিল্ডিং করেছে শ্রীলঙ্কা। বাউন্ডারি লাইনে দুশমন্থ চামিরা, কুশাল পেরেরা দারুণ দুটো ক্যাচও ধরেছেন। অবশ্য একটা ড্রপ ক্যাচের পর সেই সুযোগটা কী দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন নবী। ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারানো দলকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলেন ১৭০-এর কাছে।
বাংলাদেশকে সুপার ফোরে তুলতে শ্রীলঙ্কার জিততে হবে এই ম্যাচে। তবে এই ম্যাচে হারলেও শ্রীলংকা নিজেদের জায়গা সুপার ফোরে নিশ্চিত করবে, যদি তারা ১০১ রান করতে পারে দ্বিতীয় ইনিংসে। আর যদি ১০১ রানের নিচে অল আউট হয়, তাহলে আফগানিস্তানের সাথে পরের রাউন্ডে যাবে বাংলাদেশ। যেহেতু নেট রান রেটের হিসবেই চূড়ান্ত হবে সুপার ফোরের দুই দল।
একই মাঠে দুদিন আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে রান তাড়া করতে নেমে ব্যর্থ হয়েছে আফগানিস্তান। সেই হিসেব মাথায় রেখে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আফগান অধিনায়ক রশিদ খান। যদিও বাঁচা-মরার ম্যাচে শুরুতেই শ্রীলঙ্কার পেসার নুয়ান থুসারার তোপের মুখে পড়ে আফগানিস্তান।
ইনিংসের তৃতীয় বলেই ক্যাচ তুলেছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তবে কেউ এক্সট্রা কভারে কেউ না থাকায় বেঁচে যান এই ডানহাতি ওপেনার। অবশ্য এক ওভার পর ফিরেই গুরবাজের উইকেট নেন থুসারা। একই ওভারের শেষ বলে থুসারা উড়িয়েছেন করিম জানাতের স্টাম্প। ১৪ বলে ১৮ রান করা সেদিকউল্লাহ আতালও বোল্ড হয়েছেন তার বলে। প্রথম স্পেলে তিন ওভার করে মাত্র ১২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেয়া থুসারা নিজের শেষ ওভার করতে এসেও নিয়েছেন আরেক উইকেট। সেটাও রশিদ খানকে বোল্ড করে।
আফগানদের টপ অর্ডারে আসেনি কোনো বড় জুটি। সপ্তম উইকেটে রশিদের সাথে ৩৫ রানের জুটি গড়েছিলেন মোহাম্মদ নবী। তবে সেই জুটি ভাঙায় থেমে গিয়েছিল রানের গতি। কিন্ত অভিজ্ঞ নবীর চওড়া ব্যাটে বাকি পথটা অপ্রত্যাশিতভাবে দারুণভাবেই পাড়ি দিয়েছে সুপার ফোরের দৌড়ে থাকা আফগানরা।


