কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে একটি কালভার্ট নির্মাণে চরম অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। কালভার্ট নির্মাণের জন্য এক বছর আগে রাস্তা খনন করে কাজ ফেলে চলে গেছে ঠিকাদার।
গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি আরসিসি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ১৯ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের এক বছর পার হয়ে গেলেও কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে একটি ইটের টুকরোও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে কালভার্ট নির্মাণের উদ্দেশ্যে সড়কটি খনন করা হয়। এরপর হঠাৎ করেই কোনো কারণ না জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কালভার্টের জন্য খোঁড়া গর্তটি এখন জনদুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার নূর আলম কাজ শুরু করলেও মাঝপথে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা বারবার ঠিকাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ঠিকাদার বারবার কাজ শুরু করার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে এই এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
ষাটোর্ধ্ব স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, এই রাস্তাটি তাদের যাতায়াতের প্রধান পথ। তারা পেশায় কৃষক এবং তাদের রাস্তার ওপারে তাদের জমি। কিন্তু কালভার্ট না থাকায় তারা ফসল ঘরে তুলতে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও তারা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান আমিনুল।
আরেক বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম জানান, এই সড়ক দিয়ে মুসরুত নাকেন্দা নেসামিয়া মডেল মাদ্রাসা ও গতিয়াশাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী চলাচল করে। এছাড়া অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই পথ দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুর্ভোগ কমাতে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হলেও সেটি খুব নিম্নমানের হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় দিনমজুর আলম মিয়া ও ফজলু মিয়া তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান চলাচল করতে পারে না। তারা দিন আনেন দিন খান, কিন্তু কাজ করতে যেতে না পারলে তাদের না খেয়ে থাকতে হয়।
শাহ আলম নামের একজন বাসিন্দা জানান, তার ভাতিজা এই সড়ক দিয়ে পার হওয়ার সময় পানিতে পড়ে গিয়েছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এই চরম দুর্ভোগের প্রতিকার চেয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রাজারহাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, প্রকল্পটি গত বছর জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও তিনি কাজ সম্পন্ন করেননি। আবারও তাকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে খুব দ্রুত কালভার্টের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রকল্পের ঠিকাদার নূর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ওই এলাকায় বৈদ্যুতিক সমস্যার কারণে কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে তার এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান ও কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


