মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, দেশের মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকার তাদের ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু করেছেন, যার ধারাবাহিকতায় এখন থেকে মৎস্য আহরণকারীরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হবেন।
বুধবার দুপুরে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণনকেন্দ্রে আয়োজিত মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও মৎস্যজীবীদের মাঝে ভিজিএফ (চাল) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান মো. ইমাম উদ্দীন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে কাপ্তাই হ্রদের ঐতিহ্য ও মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একসময় এই হ্রদ থেকে যে পরিমাণ মাছ উৎপাদিত হতো, বর্তমানে তা অনেকটা কমে গেছে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও দেশের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে আজ যে পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে, সেগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
এ সময় তিনি মৎস্যজীবীদের আগামী তিন মাস মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান যাতে তারা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।
হ্রদের পরিবেশ রক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাপ্তাই লেক আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এই লেককে দূষণমুক্ত রাখতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। লেকের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় খনন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য, এ বছর কাপ্তাই হ্রদে ৬০ মেট্রিক টনের বেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিএফডিসি। এ ছাড়া হ্রদনির্ভর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে প্রথম ধাপে দুই মাসের জন্য মোট ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


