বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনের ধারা বদলে দেওয়া দূরদর্শী মিডিয়া মোগল এবং সিএনএন-এর প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার ৮৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। বুধবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে এবং টার্নার এন্টারপ্রাইজের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সিএনএন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক থম্পসন এক শ্রদ্ধা বার্তায় টার্নারকে একজন ‘নির্ভীক’ ও ‘অকুতোভয়’ নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, টার্নার সর্বদা নিজের বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রাখতেন এবং তিনি ছিলেন এই নেটওয়ার্কের মূল চালিকাশক্তি। থম্পসনের ভাষায়, ‘তিনি সেই দানবীয় ব্যক্তিত্ব, যার কাঁধে ভর করে আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি।’
সংবাদমাধ্যমের বাইরেও টার্নারের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। একজন প্রখ্যাত দানবীর হিসেবে তিনি ১৯৯৮ সালে ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং জাতিসংঘে রেকর্ড এক বিলিয়ন ডলার অনুদান দেন। তার লক্ষ্য ছিল জাতিসংঘের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া তিনি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক, জৈবিক ও উদীয়মান প্রযুক্তির ঝুঁকি কমাতে নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তোলেন। ১৯৯১ সালে ‘টাইম’ ম্যাগাজিন তাকে ‘ম্যান অফ দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল। কারণ, তিনি বিশ্বের ১৫০টি দেশের দর্শককে ইতিহাসের ‘তাৎক্ষণিক সাক্ষী’ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৮ সালে টার্নার জানিয়েছিলেন যে তিনি ‘লুই বডি ডিমেনশিয়া’ নামক একটি মস্তিস্কের রোগে আক্রান্ত। এর আগে ২০২৫ সালে নিউমোনিয়ার কারণে তিনি সাময়িকভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ সন্তান, ১৪ জন নাতি-নাতনি এবং দুই জন পুতি রেখে গেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকেও তার পরিবারের একজন মুখপাত্র মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন।


