সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় কারামুক্ত হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। শুক্রবার কারাগার থেকে বের হন তিনি।
গত সোমবার বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে ৬ মাসের জামিন দেন।
এ সময় আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, এই মামলায় অধ্যাপক কার্জনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ৬ নভেম্বর এ মামলায় হাইকোর্ট রুল দিয়ে লতিফ সিদ্দিকী ও মঞ্জুরুল আলমকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
গত ২৮ আগস্ট ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনার পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখান থেকে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
পরে সেদিন রাতে ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসদমন আইনে মামলা দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল ‘মঞ্চ ৭১’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি কামাল হোসেনের। তবে তিনি এবং আরেক আয়োজক আইনজীবী জেড আই খান পান্নার দেরিতে পৌঁছানোর কারণে সভা শুরু করতে বিলম্ব ঘটে।
সভায় অংশ নেন ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, লেখক মেসবাহ কামাল, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক।
হঠাৎ একদল যুবক স্লোগান দিতে দিতে সভাস্থলে প্রবেশ করে। তারা নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ লাঠিসোঁটা নিয়ে হলে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এবং আয়োজকদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তারা লতিফ সিদ্দিকীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করে এবং তাকে হজ বিষয়ে কটূক্তিকারী আখ্যা দিয়ে মঞ্চের দিকে ধেয়ে যায়। গোলমালকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
এক পর্যায়ে অতিথিদের অনেকে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারলেও লতিফ সিদ্দিকী ও কার্জনকে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদেরসহ অন্তত ১০ জনকে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যায়।


