পাবনার ভোটের হিসাব, একাধিক আসনে ত্রিমুখী লড়াই

পাবনার ভোটের হিসাব, একাধিক আসনে ত্রিমুখী লড়াই
Advertisement
Advertisement

শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী প্রচার জমে উঠেছে পাবনার পাঁচটি সংসদীয় আসনে। নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটাররা খুঁজছেন এমন প্রার্থী, যিনি সংকটে পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এবং মাঠপর্যায়ের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সমীকরণে পাবনার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুইটিতে বিএনপি, দুইটিতে জামায়াত এবং একটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন।

পাবনা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নাজিবুর রহমান মোমেনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। তবে স্থানীয় ভোটারদের মতে, সাঁথিয়া উপজেলায় জামায়াতের ভোটব্যাংক তুলনামূলক বেশি হওয়ায় জামায়াত প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন। পাশাপাশি প্রয়াত জামায়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে হওয়ায় তার একটি আলাদা পরিচিতিও কাজ করছে।

পাবনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী একেএম সেলিম রেজা হাবিব এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা। এই আসনে বিএনপির অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক হেসাব উদ্দিনেরও একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে, তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পাবনা-৩ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখানে বিএনপির প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আছগার আলী এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম মাঠে রয়েছেন। স্থানীয় প্রার্থী হওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বর্তমানে এগিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগ হলে সেই সুযোগে জামায়াতের প্রার্থী এগিয়ে যেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি এই আসনে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংকও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

আরও পড়ুন

এদিকে পাবনা-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে। চাটমোহর পৌর বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরশেদ দাবি করেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জামায়াত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে গোপনে কাজ করছেন এবং অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ধানের শীষের লোকজন নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মাঠে সক্রিয় প্রচারণার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছেন এবং পাবনা-৩ আসনের ভোটাররাই তাকে বিজয়ী করবেন।

জামায়াত প্রার্থী আছগার আলী বলেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা কখনো কারও সঙ্গে আঁতাতে জড়ায় না। মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের জয় ঠেকানো যাবে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ জানে কে কার সঙ্গে কীভাবে রাজনীতি করে।

পাবনা-৪ আসনেও ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু এবং জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগ হলে জামায়াত প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন।

পাবনা-৫ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে। তবে বিএনপি প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা। তার পক্ষে কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার দাবি, বিভিন্ন সময়ে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা। এসব কারণে এই আসনে তার ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad