কানাডায় এমপিপি মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ডলি

কানাডায় এমপিপি মনোনয়ন পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ডলি
ডলি বেগম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কানাডার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে টরন্টোর স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসন। দীর্ঘদিনের লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর কার্যত শূন্য হয়ে পড়ায় আসন্ন ফেডারেল উপ-নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম।

কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে লিবারেল পার্টি অব কানাডার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপ-নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ডলি বেগম।

কানাডার আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি হিসেবে ডলি বেগম ২০১৮ সাল থেকে স্কারবরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কুইন্স পার্কে তিনি কেবল একজন আইনপ্রণেতাই নন, বরং অন্টারিও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) ডেপুটি লিডার।

একই সঙ্গে বিরোধী দলের একজন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। পরপর তিনবার বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

লিবারেল পার্টি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট সাচিত মেহরা এক বিবৃতিতে জানান, ডলি বেগমের জনসেবার রেকর্ড অতুলনীয়। তিনি শুধু একজন দক্ষ রাজনীতিক নন, বরং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন নেতৃত্বের টিমে ডলি বেগমের মতো একজন নেতার সংযুক্তি কানাডাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আরও পড়ুন

ডলি বেগম তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় লিবারেল পার্টিতে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে আমি স্কারবরো সাউথওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেছি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে সেই লক্ষ্য অর্জনে আমি কাজ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত।

ডলি বেগমের বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের সঙ্গে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

টরন্টোর প্রবাসী দেলোয়ার এলাহী জানান, লিবারেল পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করে–কানাডার রাজনীতিতে দল নয়, বরং ব্যক্তির সততা, কর্মদক্ষতা ও জনসংযোগই মুখ্য। বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্র কানাডার সমতার দর্শন ধারণ ও চর্চাকারী রাজনীতিকরাই সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য।

ডলি বেগম যে সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। তাকে দলে টেনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিই রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল রাজনীতিতে ডলি বেগমের এই অবস্থান তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে এটি কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad