স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুসারে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে নেমেছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
তাদের এই কর্মবিরতির কারণে মেট্রোরেলের চলাচল হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার বেলা ৩টায় উত্তরা দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে তারা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
এ সময় ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি ফিরে আসার পর আন্দোলনকারীরা তাকে তার রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে এমডির কক্ষের সামনে অবস্থান নেন এবং বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
শুক্রবার সাধারণত বিকালে সীমিত সময় মেট্রোরেল চলে। অন্য দিন যাত্রা শুরু হয় সকাল ৭টায়, কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা চল্লিশ মিনিট পর্যন্ত চলাচল করার নিয়ম রয়েছে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিএমটিসিএলের ৯০০-এর বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করে আসছেন।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর পর থেকেই উন্মুক্ত নিয়োগে যোগদানকারী এসব কর্মচারী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে এলেও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স বা ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধাগুলো পান না বলে তারা দাবি করেছেন।
আন্দোলনকারীদের একজন জানান, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনায় ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা প্রণয়নের কথা ছিল কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে কর্তৃপক্ষ ২০ ফেব্রুয়ারি জানায় যে ২০ মার্চের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও নয় মাস ধরে বাস্তবায়ন হয়নি।
এ অবস্থায় দীর্ঘদিনের দাবি আদায়ের জন্য আবারও কর্মবিরতির পথ বেছে নিয়েছেন ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও ঘোষণা ছাড়া তারা কর্মস্থলে ফিরবেন না এবং সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়।


