টানা ভারী বৃষ্টিতে যশোরের মৎস্য খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাছের ঘের, পুকুর ও বিল তলিয়ে ১৩৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন।
জেলা মৎস্য অফিস বলছে, টানা বৃষ্টিতে আটটি উপজেলার ছয় হাজার ২১৯টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন পাঁচ হাজার ৪০৮ জন চাষি। পানিতে তলিয়ে গেছে মাছ চাষের চার হাজার ৭৮১ হেক্টর জমি।
ভারী বর্ষণে ৫ হাজার ৩৪১ মেট্রিক টন মাছ এবং ৮৩০ লাখ পোনা ভেসে গেছে। এতে ১২৩ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া, অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মাছ চাষিরা বলছেন, চলতি বছর মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে, যা জেলার মাছের চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয় হ্যাচারির স্বত্বাধিকারী ফিরোজ খান বলেন, ‘গত ৪৭ বছরে এমন ভয়াবহ ক্ষতি হয়নি। ক্ষতির পরিমাণ আমাদের ধারণার বাইরে চলে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষিতে প্রণোদনা দেওয়া হলেও মৎস্য খাতে তেমন কোনো নজর নেই।’
যশোর জেলা মৎস্য চাষি সমিতির সভাপতি জাহিদুর গোলদার বলেন, ‘গত ৮-১০ বছর ধরে চাষিরা খাবারের উচ্চ মূল্য, অতিবৃষ্টি এবং খরায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মৎস্য খাতকে শিল্প হিসেবে গণ্য করে বিদ্যুতের উচ্চ বিল চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরকার মুহাম্মদ রফিকুল আলম জানান, এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রণোদনা দিতে আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।


