উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন, পরিবারের আশা থেমে গেল জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার এই মেধাবী তরুণের শেষ যাত্রা হলো কফিনবন্দি হয়ে নিজের জন্মভূমিতে ফেরার মাধ্যমে। যে পথে তিনি গিয়েছিলেন জ্ঞান অন্বেষণে, সেই পথই শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আনল নিথর দেহে।
সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে লিমনের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। সেখানে সমবেদনা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ।
পরে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে ১৮৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুপুর ৩টা ১২ মিনিটে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে মরদেহ পৌঁছালে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাদ মাগরিব লালডোবা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদুর কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।
জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলসহ শত শত মানুষ অংশ নেন।
এ সময় লিমনের বাবা জহুরুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার যা গেছে তা আর ফিরে পাব না। আমি চাই আমার সন্তানের মতো আর কেউ যেন এভাবে না মরে। তারা দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, সবাই যেন নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে।’
তিনি জানান, এফবিআইসহ যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে এবং তারা জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান।
জামিল আহমেদ লিমন ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে ২০২৪ সালে স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন তিনি। সহপাঠী ও শিক্ষকদের কাছে শান্ত ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত লিমনের সুনাম ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও।
গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও তার পরিচিত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) নিখোঁজ হন। পরে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার একটি সেতু সংলগ্ন এলাকা থেকে আবর্জনার ব্যাগের ভেতর লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। লিমনের দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এই হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করে প্রথম ডিগ্রির হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে, ফ্লোরিডার টাম্পা বে এলাকায় লিমনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।
লিমনের চাচা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘লিমন ছিল আমাদের পরিবারের প্রদীপ। সে মরদেহ হয়ে ফিরবে এটা কখনো কল্পনাও করিনি।’
লিমনের পরিবার ও এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।


