ঢাকার তেজগাঁও এলাকার কড়াইল বস্তির আগুনে প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। তবে এতে হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে ওই বস্তিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২০টি ইউনিট প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় আগুন নেভানো সম্পন্ন হয়।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা ও ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, কড়াইল বস্তির আগুনে দেড় হাজারের মতো ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ ও আগুনের উৎস সম্পর্কে জানা যাবে। তবে, হতাহতের তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিকালে আগুন লাগার খবর পেয়ে তীব্র যানজট পেরিয়ে প্রায় ৩৫ মিনিট পর প্রথমে সাত ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও ১৩ ইউনিট একে একে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।
তিনি আরও বলেন, ‘আগুনের সোর্সে (ঘটনাস্থল) পৌঁছাতে সময় লেগেছে। বস্তিজুড়ে যত্রতত্র বিদ্যুতের তার এবং প্রতিটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সোর্স (আগুনের উৎস) নির্ধারণে তদন্ত চলছে।’
তবে আগুন নেভাতে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের আরেক কর্মকর্তা। তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি, ওয়াসা এবং বস্তির কাছের ড্রেনের পানি ব্যবহার করা হয়।
কড়াইল বস্তিতে প্রায়ই আগুন লাগার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই এ এলাকায় মহড়া করা হয়, দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়। বস্তির সরু রাস্তা, যানজট ও পানি সংকটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে এখানে। তবে কিছুদিন আগেই মহড়া শেষ হয়েছিল, এজন্য আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০ মাসে কড়াইল বস্তিতে মোট চারবার অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।
এর আগে, সবশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে বস্তিটিতে আগুন লেগে পুড়ে যায় ৬১টি ঘর। সেই দফায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তার দুই মাস আগে ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরও বস্তিটিতে আগুন লেগেছিল। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের চেষ্টার পর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার অন্যতম পুরোনো এই বস্তির আয়তন প্রায় ৯০ একর। যেখানে অন্তত ৮০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। সরু গলিপথ ও ঘিঞ্জি ঘরবাড়ির কারণে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগলে প্রতিবারই তা নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।


