তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ সংশোধনের খসড়া অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করে। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে।
দেশে তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অকালমৃত্যুর শিকার হন। ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত এই তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার এখন আরও কঠোর হচ্ছে। নতুন এই অধ্যাদেশে আধুনিক ও নতুন তামাকজাত পণ্য যেমন ই-সিগারেট বা ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টের উৎপাদন, ব্যবহার ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিকোটিন পাউচকেও এখন থেকে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন স্থানে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত জোন রাখার সুযোগ থাকলেও নতুন আইনে তা সরকারের নির্দেশনার শর্তাধীন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্য প্রদর্শন করা যাবে না। এমনকি ইন্টারনেট বা অন্য কোনো মাধ্যমেও এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ওপর সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণীর আকার বর্তমানের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। তামাকের ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


