বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহেদ কামাল মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৬ বছর।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিকদার মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়ার পর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার টাইমস অব বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।’
জানা গেছে, সকাল ৯টা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ি ‘সাঁঝের মায়া’তে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে। পরে সকাল ১১টায় ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ প্রাঙ্গণে (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে) শ্রদ্ধা প্রদর্শনের রাখা হবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আড়াইটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য নেওয়া হবে। বিকাল ৪টায় আজিমপুর গোরস্থানে মা সুফিয়া কামালের কবরে দাফন করা হবে।
কবি সুফিয়া কামালের বড় ছেলে, শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি এই বিভাগে শিক্ষকতা করেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) তিনি দীর্ঘদিন বার্তা সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত পালন করেন। পরবর্তীতে এমডি পদে তাকে দ্বায়িত্ব দিলেও, সে পদ তিনি গ্রহণ করেননি। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।
দেশে সাংবাদিকতার চর্চা ও শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য তাকে ২০১৭ সালে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়।


