কক্সবাজারে সামুদ্রিক মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই-তিন দিন ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলারগুলো অবতরণ কেন্দ্রে না ফেরায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এতে মাছের দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের নুনিয়ারছড়ার কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে (ফিশারীঘাট) গিয়ে দেখা যায়, বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ট্রলারও ঘাটে ভেড়েনি। ফলে ঘাটনির্ভর শ্রমিক-মজুররা অলস সময় কাটাচ্ছেন এবং পাইকারি ক্রেতারা মাছ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
মৎস্য খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, পৌষ মাসে শীতের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত মাছ না পেলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরছেন না।
ছোট নৌকার মাঝি মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘শীত বেশি হওয়ায় জালে মাছ কম পড়ছে। দুই-তিন দিন ধরে কোনো ট্রলার আসেনি, তাই আমাদের আয়ও বন্ধ। আমরা ছোট নৌকা দিয়ে ট্রলারের মাছ পরিবহন করি–এটাই আমাদের জীবিকার একমাত্র উপায়।’
স্থানীয় মৎস্য বিপণন প্রতিষ্ঠান ‘সাগরকইন্যা’-এর কর্মকর্তা আশরাফুল হাসান রিশাদ বলেন, ‘সাগর থেকে ট্রলার না আসায় বাজারে তাজা সামুদ্রিক মাছের সংকট তৈরি হয়েছে। চাহিদা থাকলেও সরবরাহ নেই। চলতি সপ্তাহে সংকট আরও বেড়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’
কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির তথ্যমতে, জেলায় মাছ ধরার ট্রলারের সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গভীর সাগরেও শীতের প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে এক হাজারের বেশি ট্রলার সাগরে অবস্থান করছে। আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তারা ঘাটে ফিরছে না। ট্রলার আসা শুরু হলেই সংকট কেটে যাবে।’
সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কম থাকায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ইলিশ, রুই, তেলাপিয়াসহ অন্যান্য মাছ মিললেও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
শহরের বাহারছড়া বাজারের ক্রেতা রবিউল ইসলাম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাজারে সামুদ্রিক মাছ নেই বললেই চলে। যা পাওয়া যাচ্ছে তা নদী বা প্রজেক্টের মাছ। দাম অনেক বেশি–ইলিশের কেজি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। সামুদ্রিক মাছের ওপরই আমাদের নির্ভরতা, কষ্ট হলেও কিনতে হচ্ছে।’


