কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) বিলীন হয়ে গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর বিওপির দুই-তৃতীয়াংশ নদীতে বিলীন চলে যায়। অবশিষ্ট অংশও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভেঙে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার আতারপাড়া এলাকার উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙনে উদয়নগর বিজিবি ক্যাম্পসহ ঘরবাড়ি ও কিছু বিস্তীর্ণ আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাড়ি ও জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। গত কয়েকদিনে শতশত বিঘা জমি নদীর পেটে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আতারপাড়া, বাংলাবাজারসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছর পানি বাড়ার সঙ্গে সেসব এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তিন মাস আগের পর্যবেক্ষণে পদ্মা-গড়াই নদীর ১৭টি স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। বর্তমানে পানি কমছে এবং ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ভাঙনের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। কয়েকদিন আগে সেখান থেকে বিজিবির সব সদস্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাশের চর চিলমারী বিওপিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। চর চিলমারী বিওপি থেকেই উদয়নগর এলাকায় টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কুষ্টিয়া-৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
পাউবোর কুষ্টিয়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে উদয়নগর বিওপিসহ ভাঙন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
নদীভাঙন রোধ করতে সবধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন।


