কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর নয়ন দাশ (৩৫) নামের এক সন্ন্যাসীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রহস্যজনক এ মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউপির পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার পুলিশ্যার ঘোনা নাগ পঞ্চমী মন্দিরের পাশের পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নয়ন দাশ ওই মন্দিরের সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার স্থায়ী বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দোহাজারী এলাকার ফুলতলা গ্রামে। তার বাবার নাম গোপাল দাশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত ১৯ এপ্রিল রাত নয়টার দিকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি নয়ন দাশকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনও সন্ধান না পেয়ে ২০ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় লোকজন ও মন্দির সংশ্লিষ্টরা আশপাশ এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল মন্দিরের পূর্ব পাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধানের সময় একটি গাছের সঙ্গে গলায় চাদর পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন বলেন, ‘নিখোঁজ সন্ন্যাসীর মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওনাকে কয়েকজন ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন। পরে পাহাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পাওয়া যায়—ঘটনাটি আমাদের কাছে খুবই রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


