ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দুপুর ২টার দিকে জানাজার নামাজ পড়ান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টারা, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ওসমান হাদির ওপর হামলার পর সাত দিন পার হয়ে গেলেও চিহ্নিত খুনীদের না ধরার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবু বকর সিদ্দিক।
শনিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হয় হাদির মরদেহ। এর আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

জানাজায় অংশ নিতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় সংসদ সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় মিছিল নিয়ে তারা সেখানে আসেন।
হাদির মৃত্যুতে একই দিনে সারাদেশে পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

এদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায় জনসমাগম বাড়তে থাকে। সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে দেখা যায়, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে একের পর এক মিছিল সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বিল্লাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের জানাজা পড়ার আগে খুনি ধরা পড়েনি, এটা আমাদের বড় কষ্ট। খুনিকে যেখান থেকে হোক খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।’
জানাজা ও জনসমাগমকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো প্রকার ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া, সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে যথাযথ মর্যাদায় দাফন করা হবে।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ফেরার পথে ঢাকার বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান ওসমান হাদি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ বহনকারী বিমান দেশে এসে পৌঁছায়। এরপর রাতে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের হিমঘরে হাদির মরদেহ রাখা হয়।


