জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আগামী ২৯ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে সকালে প্রসিকিউশন এই আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। শুনানি করে আদালত সেটি আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
পরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’
‘একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাসিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং নির্মম নিষ্ঠুরভাবে ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।’
এসব কারণে ওবায়দুল কাদেরকে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণ দেখিয়ে এই মামলার আসামি করা হয়েছে বলে জানান তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা; তার নিজ নিজ অর্গানাইজেশনের; সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামিভুক্ত করা হয়েছে।


