বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে দেশ গঠনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। সেজন্যই আমরা বলি-করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকার কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করে তুলতে কৃষক কার্ড চালু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি বা না করি, কৃষক হই বা না হই, ছাত্র বা ব্যবসায়ী যাই হই না কেন—প্রত্যেকেরই একটি স্বপ্ন আছে, আমরা আমাদের দেশকে সুন্দর দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এই দেশের মানুষ নিরাপদে বসবাস করুক। দেশের সন্তানরা স্বাচ্ছন্দ্যে বড় হোক, খেয়ে-পড়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য বা চাকরি করে নিরাপত্তার মধ্যে জীবনযাপন করুক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব শুধুমাত্র জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে। তাই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করে তোলা। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষিই এই দেশের প্রধান পেশা। কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। কৃষক বাঁচলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
ঢাকা থেকে সড়ক পথে টাঙ্গাইলে এসে বেলা ১২টা ২২ মিনিটে তিনি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
ল্যাপটপে বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে মোবাইলের মাধ্যমে আড়াই হাজার টাকা করে পাঠানো হয়। এর মধ্যে টাঙ্গাইলে ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক-কৃষাণী এই সহায়তা পান।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন। তিনি বলেন, এই গাছের চারা বড় হলে ফল কিন্তু আমাকে পাঠাবেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার শাসনামলে কৃষি খাতে নেওয়া উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে দেশ প্রায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। এখন সময় দেশ গড়ার। কৃষকদের পাশাপাশি দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে, না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সরকার। কৃষক, নারী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ছাত্র—সবার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’
নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ মূলত কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি উৎসব, যদিও এখন এটি সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।’
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু উৎপাদন নয়, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও গুরুত্ব দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রপ্তানি করা গেলে কৃষক যেমন লাভবান হবে, তেমনি দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।’
টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুম শেষে কৃষকরা ন্যায্য দাম পান না। কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করা গেলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব।’
এ বিষয়ে বিদেশি সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত সচিব সেলিম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ সুলতান সালাউদ্দিন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি এবং কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ প্রমুখ।


