জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদ।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। নাসের উদ্দিন এ ঘটনায় তদন্তকালীন কী কী জব্দ করেছেন, তা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন। কোন দিন, কোন সময়ে এসব জব্দ করা হয়েছে, তা লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় শুনানি সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা। এরই মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।
এর আগে ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওবায়দুল কাদেরসহ মামলার অন্য আসামিরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম না হওয়ায় তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার হতে আইনে কোনো বাধা নেই।
প্রসিকিউশনের মতে, ওবায়দুল কাদের সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছে, সেই গণহত্যার পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে তার দলের অন্য নেতারা বিশেষ করে বাহাউদ্দিন নাসিম, আরাফাত পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে ফ্যাসিলিটেট করেছেন। ওই সময় পুলিশ বা অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অক্সিলিয়ারি ফোর্স হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সরাসরি আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে এবং নির্মম নিষ্ঠুরভাবে ছাত্রজনতার আন্দোলন দমনে তারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, অঙ্গহানি করেছে।
প্রসিকিউশন জানায়, ওবায়দুল কাদেরকে এখানে কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে এই মামলার আসামি করা হয়েছে। অন্য যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই শীর্ষস্থানীয় নেতা, তাদের নিজ নিজ অর্গানাইজেশনের সেই কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির কারণে তাদের আসামি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে মনে করে প্রসিকিউশন।


