যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরুর প্রস্তাব নিয়ে পাকিস্তান পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শুক্রবার রয়টার্সকে জানান, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবিগুলো পূরণ করতে একটি নতুন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে। তবে সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি এখনো জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা বলতে চাই না, তবে আমরা এখন ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গেই কথা বলছি।’
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো পরিকল্পনা করেননি। ইরান তাদের উদ্বেগ ও শর্ত পাকিস্তানের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানাবে বলেও তিনি জানান।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘উইটকফ ও কুশনার শনিবার সকালে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের পক্ষ থেকে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে এবং সপ্তাহান্তে আরও অগ্রগতি হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রয়োজনে পাকিস্তর সফরের জন্য প্রস্তুত আছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে আব্বাস আরাগচির ইসলামাবাদে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার সফর ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। আরাগচি পৌঁছেই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে সেরেনা হোটেলে বৈঠকে বসেন। এই হোটেলেই এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বৈঠক শেষে আরাগচি সামাজিক মাধ্যম এক্স পোস্টে লিখেছেন, দ্বিপাক্ষিক বিষয় ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফর করছেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘ইরানের সামনে এখনো একটি ভালো চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তারা জানে, তাদের সামনে এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ খোলা আছে। তাদের শুধু অর্থবহ উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার দুই পক্ষের শান্তি আলোচনা আবার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সে সময় ইরান জানায়, তারা এখনো আলোচনায় বসার জন্য প্রস্তুত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলও ওয়াশিংটনের বাইরে আসেনি।


