জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।
তাজনূভা বলেন, ‘আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙ্গা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।’
এর আগে শনিবার এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারার পদত্যাগের খবর আসে। আসন্ন নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে নিজেই ঘোষণা দেন।
তার একদিন পরই তাজনূভা জাবীনের এই ঘোষণা এল।
ফেসবুকে তাজনূভা লিখেছেন, ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সঙ্গে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হলো যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেওয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।’
কিছুদিন আগেই সারাদেশ থেকে এনসিপি মনোনয়ন সংগ্রহের ডাকে দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এখন ৩০ আসনের জন্য জামায়াতের সঙ্গে জোট হচ্ছে।
‘বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নাই। পুরো আগোছালো করে চোখের পলকে ডিসওউন করে দিয়েছে।’
এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা এই সদস্য বলেন, ‘এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি। স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ মন খারাপ। কিন্তু এই দল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নাই।’
দলেরে ভেতরে ভয়ানক রাজনীতি হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘এরা নিজেদের মধ্যে রাজনীতি করতে এতো ব্যস্ত এরা কখনো দেশের জন্য নতুন একটা মধ্যপন্থার বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি করতে পারবে না।’
এই পোস্টের পর নানামুখী আক্রমণের শিকার হতে হবে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাসনুভা লিখেছেন, ‘আমার আজকে মনোনয়ন জমা দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করার কথা, আর আমি এখানে বসে এসব লিখছি। জোট নাকি হবে দেড় মাসের, তারপর তারা মধ্যপন্থায় ব্যাক বাউন্স করবে। ট্রু। ব্যাক করে আবার দ্বিচারিতা, ভন্ডামি শুরু করবে। যে জবাবদিহিতার কথা বলে এরা মুখে ফেনা তুলে, সেটা নিজেদের কেউ করলে তাকেই মাইনাস করে।’
জামায়াতের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় যেতে অনাগ্রহের কথা জানিয়ে তাজনূভা জাবীন লিখেছেন, ‘নিজেরও ভাল লাগছে না, এভাবে ছেড়ে যেতে। কিন্ত যারা এই দেশ, এই সংসদই চায় নাই তাদের সমঝোতায় একদম শুরুতেই এমপি হতে চাওয়া, বা যারা এদের কল্যাণে এমপি হওয়ার জন্য হাভাইত্তার মতো করছে তাদের নেতৃত্ব মানা আমার পক্ষে ঠিক গণঅভ্যুত্থানের পরের বছর অসম্ভব। এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি।’
কৌশল করে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গেলেও সংগঠন দাঁড় করাতে যোগ্যতা লাগে বলে মনে করেন তাসনুভা।
তিনি বলেন, ‘আপনারা মিলায় নেবেন, যারা এনসিপি ছাড়ছি তারাই এনসিপির বলা নয়া বন্দোবস্তের রাজনীতি করেছি। কিন্তু ছাড়তে হচ্ছে আমাদের।’
ভোট করতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ডোনেশন ফেরত দেবেন জানিয়ে তাজনূভা বলেন, ‘আমাকে একটু সময় দেবেন। সেটার জন্য বিস্তারিত লিখে আপডেট দেব কিভাবে ধীরে ধীরে ফেরত দেব। প্রত্যেকটা পয়সা ফেরত দেব। আপনাদের সমর্থন, আপনাদের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’


