এনসিটি ও লালদিয়া চরের ইজারা বাতিলের দাবিতে গণঅনশন

এনসিটি ও লালদিয়া চরের ইজারা বাতিলের দাবিতে গণঅনশন
এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে গণঅনশন করছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও লালদিয়া চর বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে দিনব্যাপী গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ।

শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।

অনশন চলাকালে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সরকার ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। এক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রামে হরতাল বা সাধারণ ধর্মঘট বা বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন।

এ সময় বক্তারা জনসাধারণের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ করতে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া নোটিশেরও নিন্দা জানান।

তারা বলেন, প্রশাসনিক নির্দেশ বা পুলিশের চাপে কোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করা যাবে না। শ্রমিকরা জাতীয় স্বার্থ ও তাদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

অনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পোর্ট সিবিএ সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন টিইউসি কেন্দ্রীয় সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু।

এ সময় মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এনসিটি দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে এবং বর্তমানে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে কার্যকর ও সফল কন্টেইনার টার্মিনাল। এটিকে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আমরা কোনো অবস্থাতেই এটি মেনে নেব না।’

ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত বলেন, ‘এই ইজারার সিদ্ধান্তটি পূর্ববর্তী সরকার নিয়েছিল এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেটি বহাল রেখেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। যদি এই ইজারা বাতিল না করা হয়, তবে চট্টগ্রাম অচল করতে হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘জনসম্পদ রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, বিক্রি বা ইজারা দেওয়া নয়। অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বন্দরের শ্রমিকদের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad