বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। গেল ১১ মার্চ গঠিত এই নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি এনএসসিতে রিপোর্ট জমা দিয়েছে রোববার দুপুর ১২টার দিকে। এরপর কমিটির প্রধান ও সাবেক বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান জানান, ভবিষ্যতে বিসিবি নির্বাচনকে আরো স্বচ্ছ্ব করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ করেছেন তারা।
যদিও তদন্ত রিপোর্টে কী কী আছে, সেসব খোলাসা করেননি তিনি। তবে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জানিয়েছেন, এই তদন্তে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। আসাদুজ্জামান বলেন, ”আমরা নিরপেক্ষভাবে যা নির্বাচন সংক্রান্ত যা পেয়েছি সে সম্বন্ধে রিপোর্ট দিয়ে গেলাম। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি। আমরা নিরপেক্ষভাবে ইলেকশনের ডিক্লারেশন সম্বন্ধে আলোচনা করে ইলেকশন ডেটার মন্তব্য করেছি।’
২০২৫ সালের অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে কারচুপি ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে সরে দাঁড়ান তামিম ইকবাল-সহ আরো ১৯ পরিচালক পদপ্রার্থী। নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা জয়ী হলেও শুরু থেকেই এই বোর্ডের বিরোধীতা করে আসছিলেন তামিম-সহ অন্যান্য ক্লাব কর্মকর্তারা। তাদের দেয়া অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করে এনএসসি, নির্বাচনে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে তদন্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে ছিলেন। সদস্য হিসেবে বেছে নেয়া হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এটিএম সাইদুজ্জামান ও বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট সালেহ আকরামকে।
সেই তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কী ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে, জানতে চাইলে কমিটির প্রধান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে (ভবিষ্যতে) নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ডসংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
নির্বাচন চলাকালীন অন্তবর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তাকেও সাক্ষাৎকারের জন্য ডেকেছিল এনএসসির তদন্ত কমিটি। তবে সেই ডাকে সাড়া দেননি তিনি।
বরং রোববার ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমি কেন বিসিবি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির সাক্ষাৎকারে সাড়া দেইনি: প্রথমত, একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বিসিবির ওপর এখতিয়ার বহির্ভূত ভাবে তদন্ত করছে মন্ত্রণালয়। দ্বিতীয়ত, তদন্ত কমিটির প্রজ্ঞাপনেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতে বিচারাধীন একটি বিষয়ে তদন্ত করে তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সকলে আদালত অবমাননা করছেন। চতুর্থত, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পরের বোর্ডে ডিরেক্টর পদের লোভ, লোভে রাজি না হলে ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন।”


