রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) ভেতরের অস্বাভাবিক গন্ধ, পানির মান এবং হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি বেকারির সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখতে নতুন করে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তদন্ত প্রতিবেদন আরও সমৃদ্ধ করতে নিহত নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্যও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের এনআইসিইউর ভেতরে একটি গন্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি রুটি তৈরির কারখানা বা বেকারি থেকেও কোনো ক্ষতিকর গ্যাস বা পদার্থ নির্গত হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।
তিনি বলেন, বেকারিটি দুটি বৈদ্যুতিক ওভেন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে বর্জ্যও দেখা গেছে। এসব বিষয় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাইয়ে আরও বিশেষজ্ঞ পাঠানো হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের পানির নমুনাও পরীক্ষা করা হবে।
মন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ করেছে। তবে নিহত ছয় নবজাতকের মায়েদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এ কারণে কমিটিকে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৩ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এ ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত এবং তদন্তে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না।
অভিভাবকদের সম্মতি না পাওয়ায় নবজাতকদের ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফলে পরিবেশগত ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ওপর কীভাবে বেকারি পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি কীভাবে অনুমোদন পেয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
মেডিকেল কলেজের ভবনের ওপর এ ধরনের কারখানার বৈধ অনুমোদন থাকার কথা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।


