বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিতামূলক করতে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
নতুন এই আইনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশে যেকোনো পরিস্থিতিতে এক মিনিটের জন্যও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ না করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘আগের আইনটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে এই অধ্যাদেশ তৈরি করা হয়েছে। এতে গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, সেবার মান নিশ্চিতকরণ এবং ক্রমবর্ধমান অনলাইন জালিয়াতি ও প্রতারণা প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরে প্রেস সচিব জানান, বিটিআরসির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট’ (সিআইএস) নামে একটি কারিগরি প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া আইন উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কাউন্সিল গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে আইনানুগ ইন্টারসেপশন (আড়ি পাতা) সংক্রান্ত অনুমোদন ও কার্যাবলি তদারকি করবে।
আইনটি আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানান তিনি।
সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার ও দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘পেনাল কোডসহ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশসহ সব নিরাপত্তা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে। মূল সন্দেহভাজন ছাড়াও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মামলার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করা হবে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘সরকার তার প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানায়। তার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে।’
অন্যদিকে, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে জানান শফিকুল আলম।
মার্কিন পাঁচ আইনপ্রণেতার চিঠির প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন দলটিকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ফলে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’


