‘এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, অন্যজনের বিতাড়িত ভূমিতে’

‘এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, অন্যজনের বিতাড়িত ভূমিতে’
শুক্রবার খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় কথা বলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল | ছবি: বাসস
Advertisement
Advertisement

‘এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, অন্যজনের বিতাড়িত ভূমিতে’–এমন মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, ‘আজ আমার ভালো লাগছে, সবাই মুক্তভাবে খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা জানাতে পারছি। আল্লাহর কাছে হাজার শোকর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্যই এক নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের ঠাঁই হয়েছে বিতাড়িত ভূমিতে।’

শুক্রবার বিকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজের’ উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হলে খালেদা জিয়ার অস্তিত্বকে ধারণ করতে হবে। তিনি যখন জীবিত ছিলেন, আমি তার জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রামে যেতাম। তখন একটা কথা বলতাম, খালেদা জিয়া ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে বা ভালো থাকবে? যদি দেশকে ভালো থাকতে হয়, তাহলে তাকে ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দী ছিলেন; ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।’

আরও পড়ুন

স্মৃতিচারণ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘ওনার একটা অদ্ভুত বিচার হয়েছিল, উদ্ভট বিচার। সেই বিচারে উনি শকড হয়েছিলেন অন্য পক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে। উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন যে “আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?” বিস্মিত এবং ব্যথিত হয়ে বলা এই বাক্যটাকে বিচারক লিখেছিলেন যে, খালেদা জিয়া স্বীকার করেছেন তিনি কাজটা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আইনের ছাত্র হিসেবে বলি–এত জঘন্য একটা বিচার হয়েছে। এটার বিপক্ষে বিবৃতি লিখে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ফোন করেছি বিভিন্ন মানুষকে, কিন্তু হাইকোর্টে কী করবেন না করবেন, এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হয়নি। চারজনের তো বিবৃতি হয় না, এজন্য পত্রিকায় ধরাতে পারিনি।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, উনাকে চিকিৎসার জন্য যেন বিদেশে পাঠানো হয়–এজন্য কত মানুষকে অনুনয়-বিনয় করেছি। অনেকের ইচ্ছা ছিল কিন্তু সাহস করেনি।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অনেক অসাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি সৎ, পরমতসহিষ্ণু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আত্মত্যাগী ভূমিকার জন্য ছিলেন অন্যন্য। তার মধ্যে দেশপ্রেম ছিল, রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল।’

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন।

শোকসভায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad