হিমালয়ঘেঁষা দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন। দিনের বেলাতেও মিলছে না সূর্যের দেখা। এমন কনকনে শীতের মধ্যে জরাজীর্ণ একটি ঘরে তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক মা।
তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সিন্দুর্না নদীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস আক্তার। পাঁচ সদস্যের পরিবার হলেও স্বামী থেকেও যেন নেই। শারীরিকভাবে অক্ষম স্বামী সংসারের ভরণপোষণ জোগাতে পারেন না। ফলে তিন সন্তানকে নিয়ে একাই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বিলকিস আক্তার।
তার বড় ছেলে ফয়সাল (১৩), মেজো ছেলে কাউসার (৮) ও ছোট মেয়ে জান্নাতুন। এর মধ্যে দুই সন্তান শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী।
রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শীতের তীব্রতা। টিন ও বাঁশের তৈরি ঘরের চারপাশ দিয়ে হু-হু করে ঢুকে পড়ে ঠান্ডা বাতাস। মাটির ওপর খড় পেতে এবং তার ওপর ছেঁড়া একটি কম্বল দিয়ে কোনো রকমে সন্তানদের ঢেকে রাখলেও কমে না শীত। সারা রাত কাঁপতে থাকে শিশুরা। প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা।

শীত নিবারণের জন্য নেই পর্যাপ্ত গরম কাপড়, নেই বিশেষ কোনো যত্ন। অসুস্থ হলেও অর্থাভাবে সন্তানদের চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। রাতের ঠান্ডা বাতাসে সন্তানদের কান্না আর কাশির শব্দে ঘুম আসে না মায়ের চোখে। সারা রাত সন্তানদের পাশে বসে কাটাতে হয় তাকে।
স্থানীয় প্রতিবেশী রেজাউল ইসলাম জানান, তাদের কষ্ট প্রকাশ করার মতো নয়। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য ঠিকমতো তিনবেলা খাবার জোটে না, জোটে না প্রয়োজনীয় কাপড়। অবুঝ সন্তানরা অভাব বোঝে না। মায়ের কাছে কিছু চাইলে সেই শখ-আহ্লাদ পূরণ করতে পারেন না বিলকিস আক্তার। ভালোভাবে থাকার মতো ঘর নেই, নেই ঘুমানোর খাটও। মাটিতে বিছানা পেতে ঘুমাতে হয়। সবকিছুরই অভাব তাদের।
আবেগাপ্লুত হয়ে বিলকিস আক্তার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি তো মা, সন্তানদের কষ্ট দেখে থাকতে পারি না। কোনোভাবে ছেঁড়া কাপড় আর একটা কম্বল ওদের ওপর দিয়ে রেখেছি। দুটো বাচ্চা প্রতিবন্ধী, ওরা ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না। শীতে সারা রাত কাঁপতে থাকে। তখন শুধু চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।’
‘শুধু ভাত খাইয়ে দিন পার করছি। আশপাশের কয়েকজন সাহায্য করেছে। তারা হাত না বাড়ালে হয়তো মরে যেতাম’, বলেন বিলকিস আক্তার।
তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


