ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাবে কিনা, সেই বিষয়ে দু’সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ‘বাস্তব এই যে, অদূর ভবিষ্যতে (ইরানের সঙ্গে) বোঝাপড়ায় আসার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমি সেই পথে হাঁটব কি না, সেই বিষয়ে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেব।’
আরও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পথ এখনই বন্ধ করে দিতে চান না প্রেসিডেন্ট। তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সায় নেই।প্রেসিডেন্ট কূটনৈতিক সমাধানই চান। তিনি শান্তিপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সেরা একজন। যদি কূটনৈতিক সমাধানের কোনও পথ থাকে, অবশ্যই প্রেসিডেন্ট সেই পথ ধরে হাঁটবেন।’
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ নিউজ়’-এর একটি প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ইরানকে আক্রমণ করবে কি না। জবাবে ধোঁয়াশা রেখে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি এটা করতে পারি। আবার না-ও করতে পারি!’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে নামবে কি না, তা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে বলে বৃহস্পতিবারই জানিয়েছিলেন ইসরায়েল সরকারের এক কর্তা।
সেই সমস্ত দিক বিশ্লেষণ করলে আপাতত কয়েক দিন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়াচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করার কথা বলে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে হোয়াইট হাউসের বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় যেভাবে একাধিক বার কূটনীতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের মতো শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, তাতে মনে করা হচ্ছে আপাতত আলোচনার দরজা খুলে রাখছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকদের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করে দেখে নিতে চাইছে পেন্টাগন।


