কক্সবাজারের উখিয়ায় অপহরণের এক মাস পর দুই মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দুই শিক্ষার্থীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলো—উখিয়ার থাইংখালী দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম (১৩) ও শফিকুল ইসলাম (১১)। তারা পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলার থাইংখালী এলাকায় নিজেদের বাড়ির সামনে থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দুই ভাইকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
ঘটনার পরপরই দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ ও সম্ভাব্য অপহরণকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। দীর্ঘ এক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার।
তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই দুই মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করেছে। দীর্ঘ এক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও অভিযানের পর তাদের নিরাপদে মুক্তিপণ ছাড়াই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষার্থী দুজন একই পরিবারের, তাদের কারা এবং কী উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল, এতদিন কোথায় রাখা হয়েছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান টাইমসকে বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
দুই সন্তানকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাদের বাবা শাহ আলম। তিনি টাইমসকে বলেন, ‘দীর্ঘ এক মাস পর সন্তানদের ফিরে পেয়েছি, এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। এতদিন তারা কোথায় ছিল, কারা তাদের হেফাজতে রেখেছিল এবং কেন তাদের অপহরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় আমরা এখনো জানি না। আমরা চাই, পুলিশ দ্রুত এসবের রহস্য উদঘাটন করুক এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনুক।’
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপহরণের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি অপহরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।


